হাটে হাটে শাপলা বিক্রি করে বর্ষাকালের সংসার চালান তেরোখাদার আমিনুর বিশ্বাসসহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রান্তিক মানুষ। বর্ষাকালে সাধারণ দিনমজুরদের কাজ না থাকায় এবং বর্গাচাষে ভাটা পড়ায় যখন অভাব দেখা দেয়, তখন এই বর্ষাই আমিনুরদের মতো অনেকের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়।
বর্ষাকালে দক্ষিণঞ্চলের বিলের নতুন পানিতে ফুটতে শুরু করে অগণিত শাপলা ফুল। আমিনুররা বিলপাড়েরই মানুষ। খুলনার তেরোখাদা উপজেলা সদরের বাসিন্দা আমিনুর বিশ্বাস (৫০) ও তাঁর দুই সহযোগী দু'হাতে তেরোখাদার ভুতের বিল থেকে শাপলা তোলেন। ভোরে পুরো বিলে একসাথে লাল-সাদা শাপলা ফুটে উঠলে মনে হয় যেন এক শাপলার সাম্রাজ্য। আর এই প্রাকৃতিক শাপলাই আমিনুরদের আহার যোগাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে।
খুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী বাজারে শাপলা বিক্রি করতে আসা আমিনুর বিশ্বাস জানান, "প্রতিদিন ভোরে আমরা নৌকা নিয়ে বিলে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলি। এরপর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত হাটে হাটে ঘুরে সেই শাপলা বিক্রি করি। তেরোখাদা, মোল্লাহাট ও রূপসার বিভিন্ন হাটে শাপলা বিক্রি করে বেড়াই। প্রতিদিন তিনজন মিলে আমরা ১০০ থেকে ১৫০ আঁটি শাপলা তুলি। ১০ টাকা দরে প্রতি আঁটি বিক্রি করে যে টাকা পাই, তা তিনজনে সমান ভাগে ভাগ করে নিই। এই টাকা দিয়েই বর্ষাকালে আমাদের সংসার চলে। ঘরে স্ত্রী ও ছোট একটি ছেলে আছে, আর তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।"
খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার বিলপাড়ের বহু মানুষ বর্ষায় বিল থেকে জাতীয় ফুল শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিষমুক্ত এই শাপলা সবজি হিসেবে সব শ্রেণির মানুষের কাছেই বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে ইলিশ মাছ দিয়ে শাপলার তরকারি বা শাপলা ভাজি অত্যন্ত প্রিয় খাবার। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এই সস্তা ও পুষ্টিকর সবজির কদর রয়েছে। বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন হাটেও হরদম বিক্রি হচ্ছে শাপলা, যা স্থানীয়ভাবে 'নাইল' নামেও পরিচিত।
এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ সাখাওয়াত হোসেন জানান, ‘‘বিষমুক্ত, ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল মুক্ত নিরাপদ সবজি শাপলার চাহিদা ভোক্তা পর্যায়ে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন খরচ নেই, সংগ্রহ খরচ খুবই কম, পক্ষান্তরে লাভজনক দামে বিক্রি হয় শাপলা। শাপলার কদর আছে সবার কাছে সমান ভাবে। তবে অতিরিক্ত সংগ্রহে যেন আমাদের জাতীয় ফুলের বীজ ধ্বংস হয়ে বিলুপ্তির পথে না যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখাটা জরুরী।’’
ডিআর




Comments