একসঙ্গে ৩ পুত্র জন্ম দেওয়া অসহায় কল্পনার পাশে উপজেলা প্রশাসন
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়ে ঘোর আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকা প্রসূতি কল্পনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সংবাদটি নজরে আসার পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কল্পনা বেগম ও তাঁর পরিবারকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।
কল্পনা বেগম (২৫) পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকার বাকপ্রতিবন্ধী হোটেলশ্রমিক জায়দুল হকের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি তিন নবজাতককে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে তাঁর দিনমজুর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দেন কল্পনা। পরে তিন সন্তানের নাম রাখা হয় হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। বর্তমানে সন্তান তিনটির বয়স এক মাস পেরিয়েছে এবং তারা সুস্থ রয়েছে। তবে প্রসূতি কল্পনা বেগমের অপারেশনস্থলে ইনফেকশন হওয়ায় তিনি গত এক মাস ধরে মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছেন। একদিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে তিন নবজাতকের পুষ্টিকর খাবারের জোগান দিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিল হতদরিদ্র পরিবারটি।
কল্পনা বেগম জানান, "আমার নিজের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ লাগে এবং তিন শিশুর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৬০০ টাকার গুঁড়ো দুধ কিনতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে ইউএনও স্যার আজ ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন, এতে আমি খুব উপকৃত হয়েছি। আমার সন্তান তিনটিকে বাঁচিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহায়তা কামনা করছি।"
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, "পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। আজ আবার ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হলো। এই অসহায় পরিবারের পাশে প্রশাসন সবসময় থাকবে।"
ডিআর




Comments