Image description

‘আমার বই-খাতা, চেয়ার-টেবিলসহ যাবতীয় কাগজপত্র পুড়ে গেছে। এমনকি জন্মনিবন্ধন ও জামাকাপড়ও রক্ষা করতে পারিনি। এখন আমার কিছুই নেই, আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’—পোড়া ঘরের ধ্বংসস্তূপে বই-খাতা খুঁজতে খুঁজতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল পটুয়াখালী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আইরিন রহমান মারজান।

আগুনে শুধু আইরিনের স্বপ্নই পুড়ে যায়নি, নিঃস্ব হয়েছে আরও তিনটি পরিবার। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী লাবনী আক্তারেরও বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য জামাল হোসেন বলেন, ‘আগুন লাগার পর সবাই এক কাপড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেছেন। কেউ ঘর থেকে কিছুই নিয়ে বের হতে পারেননি।’

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সোহরাব প্যাদা বলেন, ‘আগুনে চারটি পরিবারের কিছুই রক্ষা করা যায়নি। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিবারগুলো এখন একেবারেই নিঃস্ব। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পটুয়াখালী পৌর শহরের দক্ষিণ সবুজবাগের প্যাদা বাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুনে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে ঘরগুলোতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর আসবাবপত্র, পোশাক, বই-খাতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন খাদিজা বেগম, মনিরা বেগম, মশিউর রহমান ও মোশারফ মৃধা। আগুনে তাঁদের চারটি বসতঘরই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘর ও জমির মালিক এনামুল হক।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা রাজিব দেওয়ান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। তবে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এতে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে পটুয়াখালী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা, ৫০ কেজি চাল ও একটি করে কম্বল দেওয়া হয়েছে।

পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

একদিকে পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংসস্তূপ, অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারগুলোর জীবন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী আইরিন ও লাবনীর পড়াশোনা কীভাবে চলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। আগুনে বসতঘরের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণও হারিয়ে গেছে।

এসএ