চারঘাটে মুলা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা, বছরে আবাদ বেড়েছে ১০ হেক্টর
অল্প সময়ে কম খরচে লাভের সম্ভাবনা, চলতি মৌসুমে মুলা আবাদ ১০০ হেক্টর জমিতে
মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ, মাটির নিচে বেড়ে উঠছে মুলা আর সেই ফসল ঘিরেই আশার স্বপ্ন বুনছেন রাজশাহীর চারঘাটের কৃষকরা। স্বল্প সময়ে উৎপাদন ও তুলনামূলক কম খরচে লাভের সম্ভাবনা থাকায় উপজেলাজুড়ে বাড়ছে মুলা চাষের আগ্রহ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামের মাঠজুড়ে সবুজ মুলার ক্ষেত। সারি সারি মুলার গাছ আর বিস্তীর্ণ জমির সবুজ সমারোহ জানান দিচ্ছে এ ফসলের আবাদ। মুলা চাষ ঘিরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ। উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে বাড়তি আয় করার প্রত্যাশায় রয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষক আশরাফুল জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে মুলা চাষ করে ৩৫ হাজার টাকার মুলা বিক্রি করেছেন। স্বল্প সময়ে ফসল উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ থাকায় প্রতিবছরই মুলা চাষ করেন তিনি।
একই গ্রামের কৃষক মুসফিকুর, মিজানও মুলা চাষে আগ্রহের কথা জানান। তাঁদের মতে, ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে এ ফসল থেকে কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর চারঘাটে ৯০ হেক্টর জমিতে মুলার আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ১০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে আবাদ বেড়েছে ১০ হেক্টর। এতে উপজেলায় মুলা চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির চিত্র ফুটে উঠেছে।
চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, অল্প সময়ে ও অল্প খরচে মুলার আবাদ করে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। গত বছর উপজেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে মুলার আবাদ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ১০০ হেক্টর হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুলার ভালো ফলন পেতে জমি তৈরি, উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, সুষম সার প্রয়োগ, সময়মতো সেচ এবং রোগবালাই দমনের বিষয়ে কৃষকদের সচেতন থাকতে হবে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, উৎপাদিত মুলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি সহজ ও সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা থাকলে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এসএ




Comments