পশুর নদীতে ১২০০ টন কয়লা নিয়ে কার্গো ডুবি, সাঁতরে বাঁচলেন ৯ নাবিক
মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে আবারও কয়লাবাহী কার্গো ডুবি। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুন্দরবনের প্রবেশমুখ হাড়বাড়িয়া ও ইসমাইলের চরের মাঝামাঝি স্থানে ১২০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবে গেছে লাইটার জাহাজ এম.ভি. ফুলবাড়ী।
রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে পশুর নদীর উত্তাল জলে কমলা রঙের লাইফ জ্যাকেট পরে ভাসছেন নাবিকরা। একজনের হাতে টর্চের আলো, আরেকজন রশি ধরে চিৎকার করছেন "ভাই রশি ছাড়িস না!" পেছনে সুন্দরবনের ডুবো অন্ধকার বন। প্রাণ বাঁচাতে কাদা-পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছেন তারা। স্থানীয় জেলেদের নৌকা ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শফিকুল ইসলাম দৈনিক মানবকণ্ঠকে বলেন, জাহাজটি হাড়বাড়িয়ার ১৪ নম্বর বয়ায় নোঙর করা মাদার ভেসেল এমভি অবজারভেটরি থেকে ১২০০ টন কয়লা লোড করে যশোরের নওয়াপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। ভুল চ্যানেলে ঢুকে ডুবো চরে আটকা পড়ে তলা ফেটে যায়।
উদ্ধার হওয়া এক নাবিক বলেন, "হঠাৎ বিকট শব্দে জাহাজ কেঁপে উঠলো। মুহূর্তেই কাত হয়ে গেল। আমরা লাইফ জ্যাকেট পরে লাফ দিয়ে কোনোমতে বাঁচলাম।"
সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, দুর্ঘটনাস্থলটি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন থেকে মাত্র ১ থেকে ২ কিলোমিটার দূরে।
সুন্দরবন পূর্ব বনের ডিএফও মাহমুদুল হাসান বলেন, "আমরা টিম পাঠিয়েছি। কয়লা ছড়িয়ে পড়ছে কিনা, তা মনিটরিং করা হচ্ছে।"
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়লা বস্তায় প্যাকেট থাকায় এখনই দূষণের ভয় কম। তবে পরিবেশকর্মীরা বলছেন, জোয়ার-ভাটায় বস্তা ফেটে গেলে এই ১২০০ টন কয়লার বিষাক্ত সালফার, সীসা ও পারদ পুরো পশুর নদীতে ছড়িয়ে পশুর নদীর ডলফিন, মাছ ও সুন্দরবনের শ্বাসমূল ধ্বংস করে দেবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ মালিককে ১৫ দিনের মধ্যে নিজ খরচে জাহাজ উত্তোলনের আল্টিমেটাম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পশুর চ্যানেলে পলি জমে শতাধিক ডুবো চর তৈরি হয়েছে। অথচ অনেক মাস্টার পুরনো নৌ-চার্ট ব্যবহার করে ও অতিরিক্ত মাল নিয়ে শর্টকাট রুটে ঢুকে পড়েন। গত ৩ বছরেই এমভি আইচগাতি (১০০০ টন), জাবালে নূর (১২৩৫ টন), বিডি-১১৪৮ (৮০০ টন) সহ ৬টি কয়লাবাহী জাহাজ একইভাবে ডুবেছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ড্রেজিং ও ডিজিটাল বয়া বসানো না হলে সুন্দরবনের বুকে এই মৃত্যুফাঁদ বন্ধ হবে না।
ডিআর




Comments