পূর্বধলায় বিদ্যালয়ের সভাপতিকে জোরপূর্বক পদত্যাগের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়টির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও হুগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন। তাঁদের দাবি, আমিনুল ইসলাম নিজেই পদত্যাগে আগ্রহী ছিলেন।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ থেকে আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন আমিনুল ইসলাম। গত ১ নভেম্বর তাঁর মনোনয়নের আদেশ প্রকাশিত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই পদে সেলিম উদ্দীনের ছেলে মনোনীত না হওয়ায় সেলিম উদ্দীন ক্ষুব্ধ হন এবং এর জেরে আমিনুলকে পদত্যাগ করানোর পরিকল্পনা করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১ নভেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে আমিনুল ইসলামকে পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কুমারখালী বাজারে সেলিম উদ্দীনের রাইস মিলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানালে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে সেলিম উদ্দীন ছাড়াও পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী ওরফে মামুন, দেওটুকুন আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন সরকার এবং আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে দেওটুকুন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন চন্দ্র সরকার বলেন, ঘটনাটি তাঁর বাড়ির পাশেই ঘটেছিল। তিনি তখন বাজারে বসা ছিলেন। একসঙ্গে অনেক লোক থাকায় সেখানে গিয়েছিলেন। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও পরে পরিস্থিতি দেখে তাঁর কাছে ঘটনাটি স্বাভাবিক মনে হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিউটন সরকার আরও বলেন, পদত্যাগপত্রটি অন্য একজন লিখে দেন এবং আগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশিক সেটি বাজার থেকে প্রিন্ট করে আনেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দীন বলেন, প্রথমে তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁকে ফোন করে জানান, আমিনুল ইসলাম নিজেই পদত্যাগ করতে এসেছেন। এরপর তিনি তাঁর চেম্বারে গিয়ে তাঁদের দেখতে পান।
সেলিম উদ্দীনের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি সভাপতি পদে থাকতে আগ্রহী নন। পরে আমিনুলের কথাতেই তাঁর ছোট ভাইয়ের দোকান থেকে পদত্যাগপত্র টাইপ করিয়ে আনা হয়। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি বিভ্রান্ত বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিআর




Comments