মোংলাকে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী
চীনের সিআরসিসির সঙ্গে ১৪ খাতে সমঝোতা
মোংলা বন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সঙ্গে ১৪টি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলা বন্দরে ‘মোংলা বন্দর সুবিধার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়।
চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।
সিআরসিসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিসিইসিসি) চেয়ারম্যান লি চংইয়াং প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, সিআরসিসি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী হিসেবে কাজ করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিনিয়োগ সহায়তা দেবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
সমঝোতায় চিহ্নিত ১৪টি খাতের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ-চীন মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল, বন্দর আধুনিকায়ন, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি), ফ্রেইট করিডর, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, রোলিং স্টক সংযোজন কারখানা, নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন, কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ।
এ ছাড়া বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তির বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পরামর্শক সেবার বিষয়ও রয়েছে সমঝোতায়।
স্মারক সইয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং মোংলাকে আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরকারের লক্ষ্য, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৬ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার ডাভোস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সিআরসিসির চেয়ারম্যানের মধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতায় এ সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মোংলা, খুলনা ও বাগেরহাটের ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, মোংলা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বন্দরের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।
বন্দরসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সমঝোতার আওতায় প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে মোংলা বন্দর ও আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।
এসএ




Comments