ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৬৮, ধ্বংসস্তূপে আটকা অনেকে
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এরই মধ্যে প্রায় ১৬শ আফটারশক অনুভূত হওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
শনিবারের (১৫ আগস্ট) শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ এখনো স্পষ্ট ইন্দোনেশিয়ার দুর্গত এলাকাগুলোতে। কোথাও রাস্তাজুড়ে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল, কোথাও আবার ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রাণের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কায় অনেক মানুষ এখনো তাদের ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘরে ফেরার অনিশ্চয়তায় তাদের অনেকে এখন তাঁবু, স্কুল ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ১৬শ বার আফটারশক অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফ্লোরেসেই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে প্রায় ২৫০টি ঘরবাড়ি। এছাড়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা।
দুর্গত এলাকায় জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। তবে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে অনেক দুর্গম গ্রাম এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
ইন্দোনেশিয়ান রেড ক্রস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর সুযোগ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভূমিধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলায় সহায়তা পৌঁছানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রুটেং শহরের হাসপাতালগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে দুটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে দুর্গত মানুষদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সহায়তা এখনো অত্যন্ত অপ্রতুল।
এদিকে, দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। অনেক দুর্গম গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি কোনো জরুরি সহায়তা। কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত নির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দিশেহারা স্থানীয়রা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে।
ডিআর




Comments