জ্বালানি সংকটের গুজবে জীবননগরে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে জ্বালানি তেল সংকটের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। এই গুজবে আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা পেট্রোলপাম্পগুলোতে ভিড় করছেন। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল কেনার জন্য পাম্পগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদের ফলে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
সরেজমিনে জীবননগর ফিলিং স্টেশন, পেয়ারাতলার মেসার্স উৎসব ফিলিং স্টেশন, সন্তোষপুরের মেসার্স অংগন ফিলিং স্টেশন এবং দেহাটির মেসার্স পিয়াস ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেল নিতে আসা যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অনেকে আবার বড় ড্রাম ও প্লাস্টিকের পাত্রে করে তেল নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে খোলা বা খুচরা বাজারে তেল বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাপ বাড়ছে শুধু ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর।
মেসার্স অংগন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ফরহাদ হোসেন জানান, "গত কয়েকদিন ধরে তেল বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। গাড়ির ট্যাঙ্কি পূর্ণ থাকলেও অনেকে অতিরিক্ত তেল মজুদ করছেন। এছাড়া ড্রাম বা পাত্রেও তেল নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। আমরা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনা মেনেই তেল বিক্রির চেষ্টা করছি।"
তেল কিনতে আসা মোটরসাইকেল চালক ওয়ালীউল্লাহ বলেন, "শুনেছি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে, তেলের সংকট হতে পারে। সামনে ঈদ, তখন ঘোরার জন্য আগেভাগেই দেড় হাজার টাকার পেট্রোল কিনে রাখলাম।"
সেচ কাজের জন্য ডিজেল নিতে আসা কৃষক মোবারক হোসেন বলেন, "দেড় বিঘা জমিতে ইরি ধান চাষ করেছি। এখন নিয়মিত সেচ দেওয়া লাগছে। যুদ্ধের কারণে যদি তেল না পাওয়া যায়, সেই ভয়ে আগেভাগেই বেশি করে ডিজেল কিনে রাখছি।"
এদিকে সচেতন মহলের মতে, যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানি সংকটের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে তা কেবলই গুজব। এভাবে হুজুগে পড়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ করলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments