কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজ হওয়া গাজীপুরের পর্যটক মো. শরিফুল ইসলাম তুলুর (৪৫) মরদেহ দীর্ঘ ৪২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে নিকলী সদর ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি হাওরের কচুরিপানার মধ্য থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
নিহত শরিফুল ইসলাম গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১০ জুলাই) গাজীপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে নিকলী হাওরে বেড়াতে এসেছিলেন শরিফুল। সেখান থেকে তাঁরা একটি ট্রলার ভাড়া করে মিঠামইন হাওরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে হঠাৎ ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে শরিফুলসহ তিন বন্ধু হাওরের পানিতে গোসল করতে নামেন। কিন্তু পানির তীব্র স্রোতের কারণে তাঁরা বিপাকে পড়েন। বাকি দুজন কোনোমতে ট্রলারে চড়ে প্রাণে বাঁচতে পারলেও, মুহূর্তের মধ্যেই পানির তোড়ে ভেসে যান শরিফুল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজের পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা ৪২ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর, আজ ভোরে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কাঁঠালকান্দি হাওরের কচুরিপানার মধ্যে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নিকলী স্থলকাম নদী ফায়ার স্টেশনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিকলী স্থলকাম নদী ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার জানান, “দীর্ঘ ৪২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে আজ সকালে পর্যটকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
হাওরের উত্তাল পরিস্থিতি ও তীব্র স্রোতের বিষয়টি মাথায় রেখে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। একই সাথে ট্রলার ও নৌকা মালিকদেরও নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী রাখার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments