স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) বিভাগ থেকে বাংলাদেশের টেকসই, মসৃণ ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে জোরালো দাবি জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময় আরও তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। ইকোসক প্রেসিডেন্ট ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এবং ইকোসক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমার বেনজামা’র কাছে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশ এক ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাহ্যিক বিভিন্ন ধাক্কার কারণে বিদ্যমান সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সময় বৃদ্ধির উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কার মজবুত করা, সুশাসন শক্তিশালী করা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করে একটি টেকসই 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি' বাস্তবায়ন করা।
বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। এছাড়া বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ-র প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান এবং এলএফএমইএবি-র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর উপস্থিত ছিলেন।
ইকোসকের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। তারা বাংলাদেশের এই উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল ও মসৃণ করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments