Image description

টাঙ্গাইলের সখীপুরে প্রতিশোধের নেশায় ৬ বছরের এক শিশুকে চাপাতি দিয়ে হত্যার চেষ্টার সময় শাহেদ খান ফারুক (৩০) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার বোয়ালী ইকুরিয়া বাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহেদ বাসাইল উপজেলার সুনকাপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ খানের ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে শাহেদ খান ফারুক সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামের আরিফ মিয়ার মেয়ে শিফাকে বিয়ে করেন। বিয়ের ৩ মাস পর ফারুক সৌদি আরব চলে যান। এরই মধ্যে শিফা ফারুককে তালাক দিয়ে বোয়ালী ইকুরিয়া বাইদ এলাকার জুলহাস উদ্দিনের ছেলে রানাকে বিয়ে করেন। এই বিষয়টি ফারুক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি। দেশে ফিরে শিফা ও রানাকে খুঁজে না পেয়ে ক্ষোভে রানার ছোট ভাই ৬ বছরের শিশু আলিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার চাপাতি নিয়ে রানার বাড়িতে হামলা করতে এলে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে।

ভুক্তভোগী শিশু আলিফের মা ফাতেমা জানান, “ফারুক বাড়িতে এসে প্রথমে আমার বড় ছেলের (রানা) কথা জিজ্ঞেস করে। পরে ছোট ছেলের কথা জানতে চাইলে আমি কারণ জিজ্ঞেস করি। তখন সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আলিফকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ফারুক তাকে মারার জন্য সাথে চাপাতি নিয়ে এসেছিল।”

প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী রুমা আক্তার বলেন, “ফারুক আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আলিফ কোন স্কুলে পড়ে। আমি কারণ জানতে চাইলে সে জানায়— রানা ও শিফাকে এক বছর ধরে খুঁজেও পাচ্ছে না, তাই আলিফকে মেরেই সে প্রতিশোধ নেবে। তার হাতে চাপাতি দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি এবং পরে সবাই মিলে তাকে আটকে রাখি।”

আলিফের বাবা জুলহাস উদ্দিন জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে সখীপুর থানা পুলিশ এসে ফারুককে হেফাজতে নেয়। এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দিন পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে আটককৃত যুবককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর