মাতামুহুরীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনবসতি, টেকসই সিসিব্লক স্থাপনের দাবি
সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ী ঢলের তাণ্ডবে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী একাধিক পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা-পরবর্তী তীব্র নদীভাঙনে ইতোমধ্যে চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ২৬টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও তিন শতাধিক ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নিয়মিত জোয়ার-ভাটার পানি ঢুকছে। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের আনিছপাড়া এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় তীর লাগোয়া জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদীতে বিলীন হওয়ার পথে। এছাড়া বিএমচর ও বদরখালী ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতেও ভাঙন আতঙ্ক বিরাজ করছে। চকরিয়ার পাশাপাশি নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা ও রাজাখালী ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধও বন্যায় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছর তাদের ভিটেমাটি হারাতে হচ্ছে। চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম বলেন, "জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও টেকসই সিসিব্লক দ্বারা তীর সংরক্ষণ কাজ করা না হলে ছয়টি ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
অবশ্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনাখালীর পুরুত্যাখালী, মরংঘোনা ও আনিছপাড়া অংশে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) মো. শফিকুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চকরিয়া-কুতুবদিয়া জোন) সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, "বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পয়েন্টগুলো সংস্কারের জন্য আমরা ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই টেকসই সংস্কার কাজ শুরু হবে।"
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টেকসই সিসিব্লক স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত কাজ শুরু হবে, যা আগামী বছর থেকে স্থানীয়দের পাহাড়ি ঢল ও ভাঙন থেকে সুরক্ষা দেবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments