Image description

ফেনীর পরশুরামে বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জলাশয় ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগে স্থানীয় ঠিকাদার তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা (এফআইআর) গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রামের অধীন ৩১ নম্বর ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী পরশুরাম মডেল থানায় এই আবেদন জানান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরশুরাম উপজেলার কোলাপাড়া এলাকায় রেললাইনের পশ্চিম পাশে কলেজ রোড সংলগ্ন বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত প্রায় ০.২৩ একর লাইসেন্সকৃত জলাশয় রয়েছে। গত ১৫ জুলাই থেকে অভিযুক্ত তাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি ভরাট করে ওই জলাশয়টির শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ শুরু করেন। সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

রেলওয়ের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি এই জলাশয় ভরাটের ফলে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভূমি দখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বারবার সতর্ক করা হলেও তিনি কাজ বন্ধ করেননি। সেখানে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও রেলওয়ের নজরে এসেছে।

এদিকে, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেলওয়ের এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের বন্যার পর বাঁধ সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত ঠিকাদার তাজুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি কৃষি চাষাবাদের জন্য রেলওয়ে থেকে এই জমি ইজারা নিয়েছি। গত ৪০ বছর ধরে খাজনা দিয়ে আসছি। তাই আমি নিজের সুবিধার্থে মাটি ভরাট করছি।" তবে মাটি ভরাটের জন্য রেলওয়ের কোনো পূর্বানুমতি আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইজারা থাকায় কোনো আলাদা অনুমতির প্রয়োজন মনে করেননি তিনি।

এ বিষয়ে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, "রেলওয়ে বিভাগের নিজস্ব থানা রয়েছে। তবে আমরা যদি এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাই, তবে তদন্ত সাপেক্ষে রেলওয়ে থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সব ধরনের সহায়তা করব।"

সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন পরশুরামের সচেতন নাগরিক সমাজ।

মানবকণ্ঠ/ডিআর