Image description

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনালী চেলা নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের নাছিমপুর বাজারে সোনালী চেলা ক্ষুদ্র বালু ব্যবসায়ী সমিতি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভা থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, জেলার অন্যতম বালুমহাল চেলা নদীসংলগ্ন সোনাপুর, কলাবাগান, কাজিরগাঁও, আলমপুর, শারপিনপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী একাধিক চক্র রাতের আঁধারে পরিবেশবিধ্বংসী ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কয়েকটি গ্রামে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক বসতবাড়ি এবং সরকারি বনভূমি হুমকির মুখে পড়েছে।

বক্তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কার্যকর ব্যবস্থা নিলে তাদের আন্দোলন বা প্রতিবাদ সভা করার প্রয়োজন হতো না। অবৈধ ড্রেজার মেশিনের কারণে ইতোমধ্যে এলাকার অন্তত অর্ধশত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ইজারাবহির্ভূত এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চললেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

সভা থেকে সরকার নির্ধারিত ইজারাবহির্ভূত এলাকায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি অনতিবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

ইসলামপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিমের সভাপতিত্বে এবং হাফিজ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন হাফিজ ফয়াজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য নুরু মিয়া, আবুল বাশার, জালাল উদ্দিন, নাছিমপুর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি, বিএনপি নেতা মো. খলিলুর রহমান, আপ্তাব উদ্দিন, মো. নওশাদ জামিল, মো. রুবেল আহমেদ, মো. ইসরাইল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

এ বিষয়ে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুফি আলম সুহেল বলেন, “কাজিরগাঁও, সোনাপুরসহ আশপাশের গ্রামের জনবসতি, ফসল রক্ষা বাঁধ, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এলাকাবাসীর দাবির প্রতি আমি একাত্মতা প্রকাশ করছি। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”