Image description

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্য থেকে সাশ্রয় হওয়া ২৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চারঘাট উপজেলার ঝাউবোনা থেকে বড়াল নদ হয়ে নিমপাড়ার মুসা খাঁ নদী পর্যন্ত খালটি পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই প্রকল্পে এলাকার ৬৫৪ জন অতিদরিদ্র মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটি পুনঃখননের ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে কৃষকরা ব্যাপক সুফল পাচ্ছেন। পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষকদের পাট জাগ দেওয়ার জন্য আর দূরের জলাশয়ে যেতে হচ্ছে না। স্থানীয় খালেই তারা সহজে ও কম খরচে পাট জাগ দিতে পারছেন।

নিমপাড়া ইউনিয়নের কৃষক আতাবর রহমান বলেন, "খালটি আগে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় পানি জমত না। এখন পুনঃখননের ফলে পানি থাকছে, যা আমাদের পাট জাগ দেওয়া ও পানি নিষ্কাশন—উভয় ক্ষেত্রেই বড় উপকারে আসছে।"

প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিক ফজলুল হক ও নাসরিন বেগম জানান, দিনমজুর হিসেবে নিয়মিত কাজ পাওয়া দুষ্কর ছিল। এই প্রকল্পে কাজ পেয়ে তারা যেমন সঠিক মজুরি পেয়েছেন, তেমনি অভাবের দিনে পরিবার নিয়ে স্বচ্ছন্দে চলতে পেরেছেন।

নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, "খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তবে এই সুফল ধরে রাখতে খালটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি।"

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ লতিফ জানান, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছে। কাজ শেষে প্রকৃত ব্যয়ের পর অবশিষ্টাংশ হিসাব করে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, "সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল। কাজ শেষে নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত ২৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেন সরাসরি সাধারণ মানুষ পায়।"

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি প্রকল্পের অর্থ সাশ্রয় করে কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি বজায় থাকলে এই খালটি স্থানীয় কৃষিতে দীর্ঘমেয়াদী অবদান রাখবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর