শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা হালনাগাদ, কক্সবাজারে শিগগিরই সমন্বিত অভিযান
কক্সবাজারের শীর্ষ মাদক কারবারিদের একটি হালনাগাদ তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই তালিকা সম্পন্ন হওয়ার পরপরই চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাদকের পাশাপাশি জুয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো ধরনের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের হিল ডাউন সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘কক্সবাজার জেলায় মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কক্সবাজার দীর্ঘ সময় ধরে মাদক পাচারের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় মাদক পাচারের অপচেষ্টা চালানো হয়। এই বাস্তবতায় জেলার শীর্ষ মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হলেই সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী যৌথভাবে অভিযানে নামবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর। একইভাবে জুয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক অপরাধগুলো কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। যারা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দেবে বা সরাসরি জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি মনে করেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রকৃত জেলেদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি সামুদ্রিক ও উপকূলীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও কোনো ধরনের অবৈধ পণ্য যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলার সুযোগ নেই।
সভায় কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, মাদক পাচার রোধে নতুন কৌশল নির্ধারণ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য শামিমা আরা স্বপ্না, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। এছাড়াও জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, কোস্ট গার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments