Image description

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ইউনিয়নের বাঁকা ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে মন্দিরের সাতটি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা পূজার সামগ্রী, দানবাক্সের নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন চুরির ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরের পূজারী দেবলা ঘোষ প্রতিদিনের মতো পূজা দিতে এসে দেখেন, মন্দিরের দুটি কলাপসিবল গেটের চারটি তালা ভাঙা এবং সেগুলো সেখানে নেই। পরে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, সব মালামাল তছনছ ও লুট করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

এ ঘটনায় বাঁকা ঘোষপাড়া শ্রী শ্রী শ্মশান কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মানিক চন্দ্র ঘোষ পাইকগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. আমির হামজা এবং পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আউয়াল কবির। তারা মন্দিরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তদন্তের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো. আমির হামজা বলেন, "বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।"

পাইকগাছা থানার ওসি শেখ আউয়াল কবির বলেন, "লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।"

এদিকে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও ভক্তরা। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং পুলিশের টহল বৃদ্ধির জোর দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর