ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভারতের এক নাগরিককে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন ওই ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পশ্চিম জেলার শিবনগর এলাকার কৃষ্ণকিশোরনগরের এক বাসিন্দা নাম পরিবর্তন করে বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সংগ্রহ করেন। ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল ইস্যু করা ওই সনদে তিনি নিজের নাম ‘শমীর চন্দ্র সরকার’ উল্লেখ করলেও পিতা-মাতার নাম ভারতীয় নথিপত্র অনুযায়ী অপরিবর্তিত রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় বায়েক ইউপি সংশ্লিষ্টদের প্রায় ৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
গোপন সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই ওই ভারতীয় নাগরিক বৈধ পাসপোর্টযোগে কুমিল্লার বিবির বাজার ইমিগ্রেশন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। মূলত এনআইডি সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জানাজানি ও আলোচনা শুরু হলে তিনি এনআইডি সংগ্রহ না করেই পুনরায় ভারতে ফিরে যান বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এদিকে, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ওই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ এক প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে ইমেল সরকার (পিতা কাজল সরকার) নামক ওই ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, গ্রাম পুলিশের শনাক্তকরণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন রহস্যজনক কারণে জন্মনিবন্ধনটি বাতিল করেননি। কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধেও এই অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগের তীর তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সজল চন্দ্র সরকারসহ সচেতন মহলের দাবি, একজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে এবং কাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন পেলেন, তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলেও মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, "আমরা এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
একটি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় নথি বিদেশি নাগরিকের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে কোনো শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন কসবাবাসী।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments