Image description

​প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আধার সুনামগঞ্জের প্রখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওরে ফিরেছে চিরচেনা প্রাণচাঞ্চল্য।

নানান বিধিনিষেধ ও গুজবের ডানা ভেঙে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে হাওরের টাকের ঘাটে দেখা মিলল এক ভিন্ন চিত্রের। সেখানে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক পর্যটকবাহী হাউজবোট ও জলযান নোঙর করে আছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো হাওর এলাকা।

​সম্প্রতি মূলধারার গণমাধ্যমে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ নিয়ে জেলা প্রশাসনের কিছু নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশিত হলে পর্যটকদের মনে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে সরেজমিন পরিস্থিতি ও দায়িত্বশীল মহলের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাওরে পর্যটক প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে পর্যটনবাহী ‘ওয়াটার ইন’ হাউজবোটের ম্যানেজার জনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে বোট চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট কিছু এলাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে বড় হাউজবোটগুলোর প্রবেশ নিষেধ। তবে ছোট নৌকা বা ট্রলারে করে ওয়াচ-টাওয়ার এলাকাসহ হাওরের প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যাচ্ছে। এবং নিয়মিত হাউজবোট গুলো চলাচল করছে।

​ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা জানান,সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞার খবর দেখে প্রথমে তারা বোট বুকিং দেওয়া নিয়ে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে বোট মালিকদের সাথে কথা বলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর তারা স্বস্তিতে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণে আসেন।

​হাওরে এসে সবকিছুর স্বাভাবিক পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে পর্যটকরা জানান, বড় বোটগুলো কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করতে না পারলেও, সে সব স্থানে পৌঁছানোর জন্য মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় ছোট নৌকা ভাড়া করার চমৎকার সুব্যবস্থা রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তারা আনন্দঘন পরিবেশে টাঙ্গুয়ার হাওরের রূপ উপভোগ করছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর