Image description

খুলনার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক থাকলেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। একইভাবে জেলার আরেকটি বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীও সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।

খুলনা নগরীর আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র দুই শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, দুজনই ফেল করেছেন। অথচ বিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫০ জন এবং শিক্ষক ১০ জন।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, এটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়ান। তবে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়টিতে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখা যায়। সেখানে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে চারজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক রয়েছেন নয়জন।

বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হালিম সরদার বলেন, ‘আজকাল ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করে না। এ কারণেই তারা ফেল করেছে। বিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষকের কোনো ত্রুটি ছিল না। স্কুলে-বাড়িতে যদি না পড়ে, আপনি পাস করাবেন কীভাবে?’

যশোর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা জেলার ৩৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ৭৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ হাজার ৪২১ জন।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা জেলার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—আসমা সারোয়ার ইসলামিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কাটেংগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তখন এই দুই প্রতিষ্ঠানে নেমে এসেছে হতাশা।

এসএস