দিনমজুরি করেও জিপিএ-৫, অর্থাভাবে অনিশ্চিত পলাশের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন
দিনমজুরি করেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। ভালো ফল করেছি
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের দিনমজুর সুধাংশু চন্দ্র রায় ও গৃহিণী পূর্ণিমা রায়ের ছেলে পলাশ চন্দ্র রায়। দারিদ্র্যকে জয় করে পড়াশোনায় এগিয়ে যাওয়ার অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পলাশ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে করতে হয়েছে দিনমজুরের কাজ। কখনো অন্যের জমিতে, আবার কখনো নির্মাণকাজে শ্রম দিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছে সে।
মাঝেমধ্যে শিক্ষকদের সহযোগিতাও পেয়েছে পলাশ। তার পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফলও মিলেছে। বড়ভিটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। পলাশের এই সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসীর মুখে হাসি ফুটলেও সামনে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চশিক্ষার খরচ। ভালো ফল করেও অর্থাভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পলাশ ও তার পরিবার।
পলাশের মা পূর্ণিমা রায় বলেন, “পলাশের বাবা একজন দিনমজুর। মাঝেমধ্যে সে পলাশকে বলত, লেখাপড়া করার দরকার নেই, মাঠে কাজ কর। কিন্তু আমি সব সময় পলাশকে লেখাপড়ার জন্য উৎসাহ দিয়েছি। এখন সে এ প্লাস পেয়েছে। সামনে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। ছেলের লেখাপড়ার জন্য সরকার ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।”
পলাশের বাবা সুধাংশু চন্দ্র রায় বলেন, “আমি অত্যন্ত গরিব মানুষ। দিন আনি, দিন খাই। অনেক কষ্ট করে এ পর্যন্ত ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। ছেলেও মাঝে মাঝে আমার সঙ্গে কাজ করেছে। এখন তার পড়াশোনার খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
এলাকাবাসী রাধিকা ও নরেশ চন্দ্র বলেন, “এলাকায় অনেকেই পরীক্ষা দিয়েছে, কিন্তু পলাশ খুব ভালো ফল করেছে। সামনে তার পড়াশোনার খরচ জোগানো তার বাবার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার ও দানশীল ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে পলাশ হয়তো তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।”
পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, “দিনমজুরি করেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। ভালো ফল করেছি। আমি আরও পড়তে চাই। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় কীভাবে পড়াশোনা চালাব, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। পড়াশোনা করে ভালো কিছু করতে চাই। ভবিষ্যতে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। সবার সহযোগিতা পেলে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব।”
বড়ভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন বলেন, “পলাশের বাবা দিনমজুর। পলাশ ভালো ছাত্র হওয়ায় আমরা সব সময় তাকে সহযোগিতা করেছি। তার ভালো ফলাফলে আমরা গর্বিত। একই সঙ্গে পলাশের সুন্দর ও সফল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”
পলাশের মতো অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো গেলে দারিদ্র্য কখনোই তাদের স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। প্রয়োজন শুধু সামান্য সহযোগিতা ও উৎসাহ। দিনমজুরের কাজ শেষে যে ছেলে বই হাতে বসে পড়াশোনা করেছে, সেই পলাশ এখন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখছে। তার সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এসএ




Comments