নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যা মামলায় তিন ছিনতাইকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. অনিক (২৭), মো. আকাশ খান ওরফে সাইদুর রহমান (৩৬) ও বাবু ওরফে চান্দি বাবু (৪৫)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, "হত্যা মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।"
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু জানান, দণ্ডবিধি অনুযায়ী খুনের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের প্রত্যেককে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।
মামলার বিবরণ ও পূর্বসূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন ওয়াজেদ সীমান্ত। নগরীর দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ্ সাহেবের মাজারের সামনে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তাকে পথরোধ করে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ এক হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।
গুরুতর আহত অবস্থায় সীমান্তকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১১টায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় নিহত সীমান্তের বাবা মো. আলম পারভেজ বাদী হয়ে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ তিন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। নিহত ওয়াজেদ সীমান্ত দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে ছিলেন। তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন।
ডিআর




Comments