Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতন ও পরবর্তী হামলার ঘটনায় হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বহিষ্কার এবং হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান এসব দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি গত রাতের ঘটনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঘটনার জন্য হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেন।

মহিউদ্দিন খান অভিযোগ করেন, হলের খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল প্রভোস্ট তাঁর কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে প্রভোস্টের কয়েকজন অনুগত কর্মচারীর উপস্থিতিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

তাঁর দাবি, ছাত্রত্ব ও সিট বাতিলের হুমকি এবং সাইবার মামলার ভয় দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সেখানে হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসের প্ররোচনায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কথা উল্লেখ করতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখার দাবি জানালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নানা শর্ত দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন মহিউদ্দিন খান।

এরপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, হামলায় ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপি খন্দকার মো. আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান, পাঠকক্ষ সম্পাদক মো. তায়েফ, মুজিব হলের জিএস আহমেদ আল সাবাহ এবং শহীদুল্লাহ হলের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়া আহত হন। ইমামুল হাসানসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

মহিউদ্দিন খান বলেন, ছাত্রসংগঠন হিসেবে ছাত্রদলের উচিত ছিল নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু এর পরিবর্তে তারা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা ও সহিংসতার অভিযোগও তোলেন ছাত্রশিবিরের এই নেতা। এসব ঘটনাকে তিনি শিক্ষাঙ্গনে ‘নতুন ফ্যাসিজম’ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘাত হিসেবে ঘটনাটিকে সরলীকরণ না করে হামলার প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করতে হবে। তাঁর দাবি, হামলায় যারা অংশ নিয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

ছাত্রশিবিরের চার দাবি

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরে ছাত্রশিবির। দাবিগুলো হলো

১. ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

২. শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী মারুফ, আরিফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের চাকরিচ্যুত করা।

৩. সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও যাচাই করে হামলায় জড়িত ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা।

৪. কোনো ছাত্রসংগঠন যাতে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলন দমনে পেশিশক্তি ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লিখিত নিশ্চয়তা দেওয়া।

মহিউদ্দিন খান বলেন, “অনেক রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই ক্যাম্পাসকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছি। সন্ত্রাসীদের শুধু সাইনবোর্ড বদল হবে, আর কাজ আগের মতোই থাকবে এটা আমরা মেনে নেব না।”

তিনি আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের রক্ত এখনো শুকায়নি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে করা এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।