Image description

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাতের আঁধারে সড়কে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত সেই অসুস্থ প্রবাসফেরত জামাল উদ্দিন (৫৫) মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে উপজেলার কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তাঁর ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত জামাল উদ্দিন কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় আট মাস আগে কিডনি বিকলসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ আগস্ট গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা কালমেঘা এলাকার একটি নির্জন সড়কে ফেলে রেখে চলে যান। ওই সময় বৃষ্টি শুরু হলে অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ তিনি রাস্তায় পড়ে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মানবিক কারণে তাঁর ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে নিয়ে যান।

এ ঘটনার পর স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হন এবং চাঁদা তুলে তাঁর চিকিৎসার উদ্যোগ নেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়। গত ৬ আগস্ট জামাল উদ্দিনকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে তাঁকে পুনরায় ভাতিজির বাড়িতে নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, প্রবাসে থাকাকালীন জামাল উদ্দিন তাঁর উপার্জনের অধিকাংশ অর্থই স্ত্রী রিনা আক্তারের কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রায় ২২-২৫ বছর আগে তিনি পৈতৃক ভিটা বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুরে শ্বশুরবাড়ির এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখান থেকেই জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছেন, ঘটনার প্রায় আড়াই মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জীবনের শেষ সময়ে চরম অসুস্থতা ও চরম নিঃসঙ্গতার মধ্যে থাকলেও স্ত্রী-সন্তানরা তাঁর কোনো খোঁজ নেননি।

জামাল উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাইকে অনেক আগেই সাবধান করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে কারও কথা শোনেনি। শ্বশুরবাড়িতে জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে এভাবে মরতে হলো।’

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, ‘অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসায় সমাজসেবা অফিস ও স্থানীয় যুবসমাজ আন্তরিক সহযোগিতা করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ডিআর