Image description

চট্টগ্রাম নগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার বদলির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী জনসাধারণ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্তত ৫০ জন ভুক্তভোগী অংশ নেন।

মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, টাকা দিলে দ্রুত জমি রেজিস্ট্রির কাজ হয়। তবে টাকা না দিলে একই কাজের জন্য বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে মাহফুজুর রহমান বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাহফুজুর রহমানকে চট্টগ্রাম নগরীর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে বদলির সুপারিশ করা হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত ওই সুপারিশ কার্যকর করে তাকে সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে সরানোর দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ জুলাই চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামীলুর রহমানের স্বাক্ষর করা এক অফিস আদেশে মাহফুজুর রহমানকে সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে মিরসরাই সাব-রেজিস্ট্রি দপ্তরে পদায়নের সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বাংলাদেশ বরাবর সুপারিশ পাঠানো হলেও তিনি এখনো সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী দিলুয়ারা মাহফুজের বিরুদ্ধে কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২। মামলায় দিলুয়ারা মাহফুজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়।

এর আগে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি আবদুর রহিম নামের এক ব্যক্তির জাল-জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিজ দপ্তর থেকে মাহফুজুর রহমানকে শোকজ করা হয়। শোকজের জবাবে তিনি লিখিতভাবে তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কথা উল্লেখ করেন। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর থেকে মাহফুজুর রহমান নিজেকে বিএনপির পরিচয় দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন মানববন্ধনকারীরা। দুদকের মামলা চলমান থাকা অবস্থায়ও তাকে সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. মাহফুজুর রহমানের দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এনএ