মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে স্থানীয় ও দূরপাল্লার সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই আকস্মিক ধর্মঘটে বরিশাল থেকে ঢাকা, খুলনা, পিরোজপুরসহ সব রুটের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, যাত্রী ওঠানামাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বানারীপাড়ার শিমুলতলা এলাকায় মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) শ্রমিকরা পিরোজপুরগামী তিনটি বাস আটকে দেন। এর প্রতিবাদে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বাস শ্রমিক ও মালিকরা।
বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, “আমরা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে মহাসড়কে বাস চালাই। আর তারা অবৈধ হয়েও মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে একদিকে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। অবৈধ থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
পিরোজপুর বাস কাউন্টারের কর্মী রেজা ও বাসের হেলপার জসিম জানান, মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।
জসিম আরও বলেন, বরিশাল ও বানারীপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নথুল্লাবাদ টার্মিনালে শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। ঢাকাগামী যাত্রী সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি, কিন্তু কোনো বাস ছাড়ছে না। জরুরি কাজে ঢাকা যাওয়া দরকার ছিল, এখন বিকল্প পথে যাওয়ার উপায়ও নেই।” অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়ায় ছোট যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
যাত্রীরা দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং জনস্বার্থে বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় দিনভর যাত্রী ভোগান্তি আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডিআর




Comments