দুই কন্যাসন্তান রেখে উধাও স্ত্রী, তিন মাস পর পুনর্বিয়ে
এক মাস না যেতেই ফের লাপাত্তা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দুই কন্যাসন্তানকে রেখে এক গৃহবধূর স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর অভিযোগ, এক ব্যক্তির সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে সংসারে অশান্তি চলছিল। প্রথমবার বাড়ি ছাড়ার প্রায় তিন মাস পর পারিবারিকভাবে তাকে ফিরিয়ে এনে স্বামীর সঙ্গে আবারও বিয়ে দেওয়া হয়। তবে দ্বিতীয় দফায় বিয়ের এক মাস না পেরোতেই ওই নারী ফের সংসার ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী মো. বিল্লাল হোসেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী এলাকার সানজিদার ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাত ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বিল্লাল হোসেনের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রী অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও অশান্তি হতো।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ জানুয়ারি সকালে বিল্লাল কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে তার স্ত্রী চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্বামীর দাবি, যাওয়ার সময় তিনি ঘর থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, কাপড়চোপড়সহ কিছু মূল্যবান মালামাল নিয়ে যান।
পরে আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিল্লাল হোসেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, বাড়ি ছাড়ার পর ওই নারী চট্টগ্রামের প্রবাসী খাইরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে গাজীপুরের একটি এলাকায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কিছুদিন অবস্থান করেন বলেও পরিবারের দাবি।
ঘটনার প্রায় তিন মাস পর পরিবারের মধ্যস্থতায় ওই নারীকে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে পারিবারিকভাবে তাকে আবারও স্বামী বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় বিয়ের এক মাস না পেরোতেই তিনি আবারও স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ।
এরপর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বিল্লাল হোসেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিল্লাল হোসেন বলেন, “আমি আমার দুই অবুঝ মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। সে যদি নিজের ইচ্ছায় এই সংসারে ফিরে আসতে চায়, তাহলে আসুক। আর যদি না আসতে চায়, তাহলে আমাকে আইনিভাবে মুক্তি দিক। আমিও সন্তানদের নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই।”
ওই নারীর বাবা বলেন, মেয়েকে স্বামীর সংসারে পাঠাতে তাদের আপত্তি নেই। তবে এজন্য স্বামী বিল্লাল হোসেনকেই গিয়ে নিজ দায়িত্বে তাকে নিয়ে আসতে হবে।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে ওই নারীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। সম্ভবত এটি এক সপ্তাহের আগের ঘটনা। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। দুই কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাদের স্বজন ও স্থানীয়রা।
এসএ




Comments