পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত রোববার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর আটজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার কারণ নিয়ে ভুক্তভোগী ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, এক বিবাহিত তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল এলাকার কাইয়ুম ও কামাল শিকদার। ওই প্রস্তাবে তরুণী রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ঘটনার রাতে ১৫-২০ জন লোক নিয়ে তাকে মামার বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এসময় তরুণীর চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা বাধা দিলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে পিটিয়ে ও কুপিয়ে বেশ কয়েকজনকে জখম করা হয়।
আহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় পাওয়া গেছে তারা হলেন— রাব্বি খান (১৭), শাখাওয়াত খান (২৬), জুলহাস খান (২৫), সাকিবুল খান (১৭), সবুজ খান (৩০), অলিল খান (৩৫) ও মজলু খান (২৬)। আহতরা জানান, হামলার পর তাদের হাসপাতালে যেতেও বাধা দেওয়া হয়। পরে তারা বিকল্প পথে গলাচিপা হয়ে স্পিডবোটে পটুয়াখালী এসে হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলহাস খান বলেন, “হামলার পর থেকে আমাদের প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, যার কারণে এখনো পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছি না।”
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কাইয়ুম ও কামাল শিকদার এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তারা এর আগে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, পুলিশের দাবি ভিন্ন। দায়িত্বরত এসআই বিল্লাল জানান, “প্রাথমিক তদন্তে নারী সংক্রান্ত কোনো বিষয় পাওয়া যায়নি। মূলত এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।”
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, “সংঘর্ষের বিষয়টি আমি জেনেছি। আহত কয়েকজন আমার কাছে এসেছিলেন, আমি তাদের আগে দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছি। তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”
ডিআর




Comments