শতবর্ষ পেরিয়েও
জাতীয়করণের ছোঁয়া লাগেনি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জাতীয়করণের আওতায় আসেনি। ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, শিক্ষার্থী সংখ্যা, অবকাঠামো ও ভালো ফলাফল থাকার পরও জাতীয়করণ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৯ একর ৫০ শতাংশ জমি রয়েছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬৩৮ জন। রয়েছে ভোকেশনাল শাখা, অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, বিজ্ঞানাগার, সুসজ্জিত অবকাঠামো ও বিস্তীর্ণ খেলার মাঠ। খেলাধুলা, স্কাউটিংসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও রয়েছে বিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ও সাফল্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফা তালিকার চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত গেলেও শেষ পর্যন্ত জাতীয়করণের তালিকা থেকে বাদ পড়ে। জাতীয়করণের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ফলাফলের দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভালো ফলাফল করে আসা এবং বিপুল সম্পদের অধিকারী এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হলে এলাকার শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
এলাকাবাসী জানান, সাদুল্লাপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টির বিস্তীর্ণ মাঠে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এই মাঠে এসে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানও ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টির মাঠে এসেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে শতবর্ষী এ প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হলেও জাতীয়করণের ক্ষেত্রে এখনো উপেক্ষিত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ভোকেশনাল শাখার পাশাপাশি রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার। শিক্ষা, খেলাধুলা, স্কাউটিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যালয়টির রয়েছে অর্জন। প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৯ একর ৫০ শতাংশ সম্পত্তিও এর অন্যতম বড় সম্পদ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সচেতন ব্যক্তিরা সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলে সরকারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বরং বিদ্যালয়ের নামে থাকা বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পরও সরকারি রাজস্বে অর্থ যোগ হতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।
এলাকার শিক্ষানুরাগী, সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের মতে, শতবর্ষী এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের আওতায় এলে সাদুল্লাপুরের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আশা, বর্তমান সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সাদুল্লাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনবে। এতে শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এসএ




Comments