জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত ২০ কর্মকর্তার সাজা মওকুফ করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা মার্জনা চেয়ে আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি তা মঞ্জুর করেন এবং দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন। রাষ্ট্রপতির এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) শাস্তি মওকুফের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শাস্তি মওকুফ হওয়া কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের জুন মাসে রাজস্ব খাতের আন্দোলনের সময় তাঁদের বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। এটি ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ৩০এ বিধির লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি (খ) অনুসারে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত ও বেতন গ্রেড অবনমনসহ বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
শাস্তি মওকুফ হওয়া ২০ কর্মকর্তা হলেন:
কমিশনার জাকির হোসেন (চলতি দায়িত্বে), অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির পর এর বিরোধিতা করে এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় দেড় মাসব্যাপী নজিরবিহীন আন্দোলন শুরু করেন। ওই বছরের জুন মাসের শেষের দিকে দেশের শুল্ক-কর কার্যালয়গুলোতে কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থবছরের শেষ সময়ে এমন স্থবিরতায় জাতীয় রাজস্ব আদায় চরম হুমকির মুখে পড়ে। সে সময় রাজধানীর এনবিআর কার্যালয়সহ সারা দেশের দপ্তরগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যা এনবিআরের ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি।
পরবর্তীকালে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করা হলেও আন্দোলনের জেরে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বরখাস্ত ও বদলিসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল আবেদন করলে তাঁদের মার্জনা করা হয়।
ডিআর




Comments