Image description

রংপুরের মিঠাপুকুরে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর টাকা-পয়সার বিনিময়ে বিষয়টি আপস-মীমাংসা এবং মোটা অঙ্কের দেনমোহরে নাবালিকা কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের খোদ্দ কাশিনাথপুর গ্রামের মোঃ মনোয়ার মিয়ার মেয়ে মোহনা খাতুনের (১৪) সঙ্গে একই এলাকার নুর আলমের ছেলে রাজিন মিয়ার (১৯) দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক ছিল।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে মিঠাপুকুর থানায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রাজিন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, মামলা নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের বিনিময়ে টাকা-পয়সার লেনদেন এবং মোটা অঙ্কের দেনমোহরে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। মূলত টাকার জন্য ধর্ষণ মামলা দায়ের করে এখন দফারফা করার চেষ্টা করছে তারা। বর্তমান সময়ে এটা একটা ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আমরা ধর্ষণকারীর বিচার চাই পাশাপাশি যারা টাকার বিনিময়ে দফারফার চেষ্টা করছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ অর্থের বিনিময়ে আপস করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের আইনি বিচার দাবি করেছেন। পাশাপাশি মামলা আপস বা প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মামলার বাদী মোহনা খাতুনের মা জানান, 'বিষয়টি আমার মামা মোঃ রশিদ দেখতেছে। তিনি সবকিছু বলতে পারবে।'
ছেলের বাবা নুর আলম বলেন, 'আমরা ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিয়ে করার কথা বলেছি'। ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়েকে কিভাবে বিয়ে করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'কোটে এফিডেভিট করে বিয়ে দেব। তারপর তারা মামলা তুলে দেবে।'
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডনকনকং বলেন, মামলা হয়েছে এবং আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। আসামিকে দেখতে পেলেই আমরা গ্রেপ্তার করব। কোন আপসের সুযোগ নেই।
এসএ