Image description

কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না করলে সেটিকে আর সাধারণ আটক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং ২৪ ঘণ্টা পার হলেই তা ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ পাস হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

চিফ প্রসিকিউটর এই নতুন আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মাইলফলক। আগে এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ ছিল না। এখন নতুন এই আইনের ফলে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবার বিচার পাওয়ার সুনির্দিষ্ট পথ খুঁজে পাবে।” তিনি আরও জানান, ব্যক্তির আইনগত অধিকার রক্ষা এবং পরিবারের কাছে তার অবস্থান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আমিনুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অন্তত ২৫১টি গুমের ঘটনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় অপরাধের ধরণ একই হওয়ায় এবং সুশৃঙ্খলভাবে ঘটানোয় এগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের এই নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হবে না। বরং অতীতে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোও এই নতুন আইনের আলোকে পর্যালোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ডিআর