Image description

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে তাঁদের চোখে চুনের পানি ঢেলে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের চোখের অবস্থা গুরুতর।

মধ্যযুগীয় কায়দায় এ নির্যাতনের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এ ছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার গভীর রাতে দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে তিনি স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে গরু খুঁজতে বের হন।

ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে দিয়ে দুটি গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাসিন্দা সোনাই মিয়া (২৫)। বিষয়টি সন্দেহ হলে মুসল্লিরা তাঁকে আটক করেন। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে সোনাই মিয়া গরু চুরির কথা স্বীকার করেন বলে জানা যায়। এ সময় তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউরি গ্রামের আবু বক্কর ওরফে বাক্কার (৩৫) এবং একই উপজেলার পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩০) জড়িত ছিলেন।

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে বক্কর ও নিজামকে মসজিদের সামনে ধরে এনে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গরুর মালিক আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে এসে গরু দুটি তাঁর বলে শনাক্ত করেন। পরে অভিযুক্ত তিনজনের হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকান থেকে চুন এনে পানিতে গুলিয়ে তাঁদের চোখে ঢেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক মানুষের মধ্যে তিনজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। তাঁরা মারধর না করার জন্য অনুরোধ করছেন। তাঁদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার হাতটা খুইলা একটু পানি দেও। আমি আপনার পায়ে ধরি, একটু পানি খাইতাম।’ পরে তাঁকে পানি পান করানো হয়।

খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তিনজনকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাঁদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, তিনজনের চোখের আঘাতই গুরুতর। হাসপাতালে চক্ষু চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডিআর