লেমুর শনাক্তে বাংলাদেশি তদন্ত দলকে সহযোগিতা করবে আম্বানির ভান্তারা
গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিং-টেইলড লেমুর ভারতের গুজরাটের একটি পার্কে পাওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বাংলাদেশি তদন্ত দলকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারতের গুজরাটে অবস্থিত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ভান্তারা’। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী আম্বানি পরিবারের।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভান্তারা জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রক্রিয়াকে তারা স্বাগত জানায়। এ বিষয়ে যেকোনো আইনসম্মত অনুরোধে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ভান্তারার ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটিতে থাকা প্রতিটি প্রাণীর উৎস ও ইতিহাসের নথি সংরক্ষিত রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা লেমুরগুলোও প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা মেনেই সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজন হলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে ভান্তারা প্রস্তুত। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতীয় আইন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় রয়েছে। গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বলে উল্লেখ করা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, “ভান্তারার বিবৃতিটি আমরা ফেসবুকে দেখেছি। যেহেতু লেমুর চুরি যাওয়ার পর প্রথমে ডিবি পুলিশ, পরে সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছে, তাই তদন্তকারী সংস্থাকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”
তিনি জানান, একই পরিবারের আরেকটি লেমুর বর্তমানে গাজীপুর সাফারি পার্কে রয়েছে। লেমুরটির ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তা সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে অন্য দেশে পাচারের সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও প্রাণীর সঙ্গে একটি পুরুষ ও একটি মাদি লেমুর উদ্ধার করা হয়। পরে লেমুর দুটিকে গাজীপুর সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে থাকা অবস্থায় লেমুর দুটির দুটি বাচ্চা জন্ম নেয়।
পরবর্তীতে একটি লেমুর মারা গেলে সাফারি পার্কে তিনটি লেমুর ছিল। ২০২৫ সালের ২২ মার্চ দিবাগত রাতে লেমুরের বেষ্টনীর নেট কেটে তিনটি লেমুর চুরি করা হয়। এ ঘটনায় একই বছরের ২৪ মার্চ থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে ৬ এপ্রিল মামলা রুজু করা হয়।
এরপর ১৮ মার্চ রাতে রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি লেমুর উদ্ধার করে সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হয়।
মামলা রুজুর পর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া লেমুর উদ্ধারে তদন্তে নামে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তের একপর্যায়ে তারা জানতে পারে, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া বিপন্ন প্রজাতির তিনটি রিং-টেইলড লেমুরের মধ্যে দুটি ভারতের গুজরাটে আম্বানি পরিবারের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণ প্রকল্প ‘ভান্তারা’য় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিআইডির বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্ত দিয়ে পাচারের পর একাধিক হাত ঘুরে লেমুর দুটি সেখানে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এখন ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের মাধ্যমে গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি যাওয়া লেমুরের পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এসএ




Comments