Image description

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সারাদেশে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরেও ব্যাপক পরিসরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে নগরের শ্মশানমন্দির, শ্মশান মোড়, রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড় এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্কাউট, বিএনসিসি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা হাতে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও অভিযানে অংশ নিয়ে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করেন।

বিশেষ করে রাজ শ্মশানের পাড় ও চেলা বিলের পাড়ে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

গাজীপুরের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহম্মদ হোসেন ভূঁইয়াসহ জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি গাজীপুরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার আনাচে-কানাচে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে। এ কাজে সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, শুধু একদিনের অভিযান দিয়ে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইতোমধ্যে এসব কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদসহ জনসমাগমস্থলেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

এদিকে, একযোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সচেতন হয়ে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গাজীপুরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

এসএ