Image description

দুই বছর ধরে ভাঙা পড়ে আছে শতবর্ষী একটি সেতু। সেতুর ওপরের অংশের ছাদ ভেঙে নিচে পড়ে যাওয়ার পর থেকে বন্ধ রয়েছে ভারী ও মালবাহী যান চলাচল। স্থানীয়রা দুই পাশে স্টিলের স্লিপার বসিয়ে কোনোরকমে মানুষের পারাপারের ব্যবস্থা করলেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। সরকারি উদ্যোগে সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ভাটি অঞ্চলের প্রায় ১৬টি গ্রামের লক্ষাধিক বাসিন্দা।

উপজেলার খুরশিমুল সড়কের ছোটপাইকুড়া এলাকায় অবস্থিত সেতুটি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের সঙ্গে ভাটি অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ছোটপাইকুড়া, খুচিরগাঁও, করনশ্রী, উলোকান্দা, দাসপাড়া, জগদিশপুর, মানারকান্দী, খুরশিমুল, শিয়াধার, রামপাশা, বলদর্শী, পেরিরচর, গৌরাকান্দা ও মল্লিকপুরসহ প্রায় ১৬টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেই। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কৃষিপণ্য ও ভারী মালামাল পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। জরুরি প্রয়োজনে রোগী কিংবা পণ্য পরিবহনেও তৈরি হচ্ছে বাড়তি দুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির মূল কাঠামোর বড় অংশ ভেঙে গেছে। সেতুর দুই কিনারে দুটি স্টিলের স্লিপার বসিয়ে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেগুলোর ওপর দিয়েই নারী, শিশু, বয়স্কসহ সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। মাঝেমধ্যে কিছু অটোরিকশাও ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

খুচিরগাঁও গ্রামের বকুল মিয়া বলেন, ‘সেতুটি প্রায় দুই বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। কেউ সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না। এতে ভাটি অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবনযাত্রা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ভারী ও মালবাহী যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে সমস্যায় পড়ছেন। ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনেও বাড়তি খরচ হচ্ছে।

সেতুটির দুরবস্থার বিষয়টি প্রশাসনের নজরেও আনা হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সেতুটির বেহাল দশা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দেন। কিন্তু এরপরও সেতুটির সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার করছে। কেউ হেঁটে, কেউবা স্টিলের স্লিপারের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে সেতু পার হচ্ছেন। তবে কোনো ভারী যানবাহন বা মালবাহী গাড়ি সেতুটি পার হতে পারছে না।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেতুটি শুধু একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নয়; এটি ভাটি অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি অচল থাকায় পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণ করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এসএ