Image description

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে ডিলারের পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। পরে উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় গোডাউন থেকে সার বের করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামে ডিলার শহিদুল ইসলামের পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রোববার সার দেওয়া হবে বলে আগে থেকে প্রচার করা হলেও নির্ধারিত দিনে এসে তারা শুনতে পান সার আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এতে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে গুদাম খুলে ভেতর থেকে ৬০ বস্তা সার দেখতে পান। তাদের অভিযোগ, ডিলার শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন ভুয়া নাম রেজিস্টারে তুলে চড়া দামে খোলা বাজারে সার বিক্রি করে দিয়েছেন।

নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ওই ডিলারের নামে ৬৪ টন সার বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে তিনি ৫৮ টন (প্রায় ১২০০ বস্তা) উত্তোলন করেন। তবে বিতরণ রেজিস্টারে মাত্র ৫ শতাংশ গ্রাহকের ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে অধিকাংশ নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল জানান, গুদামে থাকা সার তৎক্ষণাৎ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং রেজিস্টারে কোনো কারচুপি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ডিলার শহিদুল ইসলাম সারের ঘাটতির কথা দাবি করলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, খবর পেয়েই কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সার বরাদ্দের ব্যবস্থা চলছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান এবং বাফার গোডাউনের ইনচার্জ ওহিদুর রহমান জানান, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই; একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং ডিলাররা নিয়মিত সার উত্তোলন করছেন।

ডিআর