চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে লিটনের মরণোত্তর দেহ দান
চিকিৎসা শিক্ষা ও বিজ্ঞান গবেষণায় ব্যবহারের জন্য নিঃশর্তভাবে নিজের মরণোত্তর দেহ হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে দান করেছেন নবীগঞ্জের লিটন দাশ তালুকদার (৩০) নামে এক যুবক। দুটি কিডনি বিকল হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নবীগঞ্জ পৌরসভার শিবপাশা এলাকার নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহত লিটন দাশ তালুকদার নবীগঞ্জের মৃত দ্বিজেন্দ্র দাশ তালুকদার ও রেখা রানী দাশের ছেলে। তাঁর একমাত্র বড় ভাই দিপু চন্দ্র দাশ তালুকদার বাসদ নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য।
জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন লিটন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মৃত্যুর পর দেহ পুড়িয়ে না ফেলে বা পচিয়ে নষ্ট না করে মানবকল্যাণে ব্যবহার করলেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা আসবে। তাঁর এই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও দেহ গবেষণার মাধ্যমে অনেক মেডিকেল শিক্ষার্থী দক্ষ চিকিৎসক হয়ে মানবসেবায় ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন ভাবনা থেকেই তিনি মরণোত্তর দেহ দানের এ সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। সম্ভবত হবিগঞ্জ জেলায় কোনো ব্যক্তির এটিই প্রথম মরণোত্তর দেহ দান এবং এটি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজেরও প্রথম মরণোত্তর দেহ প্রাপ্তি।
নিজের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে বুঝতে পেরে গত ১৩ আগস্ট নোটারীকৃত হলফনামার মাধ্যমে তাঁর মৃতদেহ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণা কাজে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন লিটন।
রোববার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জাবেদ জিল্লুল বারী, এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য্য, সমাজতান্ত্রিক খেতমজুর ফ্রন্ট ও বাসদ নেতৃবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় জেলা প্রশাসনের অনুমতিসহ যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হয়। প্রক্রিয়া শেষে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সযোগে নবীগঞ্জ থেকে লিটন দাশের মরদেহ নিয়ে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন তাঁর বড় ভাই দিপু দাশ ও স্বজনেরা।
মরদেহ হস্তান্তরের পূর্বে বাসদ হবিগঞ্জ জেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়াত লিটনের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ এবং লাল সালাম প্রদর্শন করা হয়। এ সময় বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম, নবীগঞ্জ উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী ফয়সল সুয়েবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্রতিনিধিরা জানান, মানুষের এই পচনশীল দেহের চেয়ে মানবকল্যাণে রেখে যাওয়া অবদানই মুখ্য। লিটন দাশের এমন দৃষ্টান্তমূলক ও মানবিক অবদান হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ পরিবার আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।
ডিআর




Comments