Image description

মাগুরার শালিখা উপজেলায় পুরোনো একটি হত্যা মামলা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সুলতান মোল্যা (২৫) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সিংড়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সুলতান মোল্যাকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত সুলতান মোল্যার দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে উপজেলার বলাই নাঘোসা গ্রামে সুলতান মোল্যার চাচা ইকতার মোল্যা হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ওই হত্যা মামলার রায় আগামী ১ অক্টোবর ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, সোমবার দুপুরে মামলাটি কেন্দ্র করে বলাই নাঘোসা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. শামসু ও তাঁর সমর্থকেরা সিংড়া বাজারে জাফর মোল্যার কাছে গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন ও হুমকি-ধমকি দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে জাফর মোল্যার সমর্থক বাকপ্রতিবন্ধী সুলতান মোল্যাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলতানের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১২ সালের ওই হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব চকলেট মুন্সির সঙ্গে সক্রিয় রাজনীতি করেন। পুরোনো হত্যা মামলা ও সর্বশেষ সংঘর্ষে সুলতানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

শালিখা থানার ওসি (তদন্ত) দেবব্রত রায় জানান, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডিআর