Image description

অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলামের বিচার ও পদত্যাগের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন দলিল লেখকরা। টানা ৯ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে জমি কেনাবেচার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, ফলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং চরম জনভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত ৬১ জন দলিল লেখক সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলামের ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারের বিচার চেয়ে তাঁরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকরা ৯ম দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন।

জমি বিক্রি করতে আসা ভুক্তভোগী মাজহারুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সমস্যা ও জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে চাইলেও কর্মবিরতির জন্য তিনি জমি বিক্রি করতে পারছেন না।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সহ-সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ বলেন, জমি বেচাকেনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

গৌরীপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম হাসিব শাহীদ মুন্সী বলেন, "মোঃ রফিকুল ইসলাম গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদানের পর থেকেই দলিল করতে গিয়ে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতারা। নির্দিষ্ট পরিমান অনৈতিক সুবিধা না দিলে বিভিন্ন অযুহাতে জমি রেজিস্ট্রি অনাবশ্যক বিলম্ব করেন এবং দলিল লেখকদের অযথাই বহিস্কার করেন।"

দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রারের বিচার দাবি করে তিনি আরও বলেন, "টানা কর্মবিরতির কারণে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আমরা তার বিচার ও পদত্যাগ চাই এবং একজন সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।"

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ রফিকুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

ময়মনসিংহ জেলা সাব-রেজিস্ট্রার প্রদীপ সাহা বলেন, "সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাইলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ডিআর