Image description

দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির ধারাবাহিক সুফল হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় গ্রিডে আনুষ্ঠানিকভাবে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ থেকে আরও ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) কর্তৃপক্ষ।

বিজিএফসিএল সূত্রে জানা যায়, তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির খননকাজ প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীরে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কূপের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই এটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যা এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।

বিজিএফসিএলের পরিচালকরা জানান, তিতাস ও কামতা ফিল্ডে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একাধিক উন্নয়ন ও অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

বিজিএফসিএলের বিভিন্ন কূপের উন্নয়ন অগ্রগতি

তিতাস-২৯: কূপটির মূল খননকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে লঘিংসহ আনুষঙ্গিক কাজ চলায় আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে দিনে ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

তিতাস-৩০: আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ হলে দৈনিক আরও ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যোগ হবে।

তিতাস-৩১: চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল থেকে গভীর অনুসন্ধান কূপটির খনন শুরু হয়। প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার খনন শেষ হয়েছে। এটি সফল হলে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলবে।

বাখরাবাদ-১১: তিতাস-৩১ এর কাজ শেষেই ৪ হাজার ৫০০ মিটার গভীরের এই কূপে খনন শুরু হবে। এটি থেকে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সবকটি কূপের কাজ সম্পন্ন হলে তিতাস-২৮ সহ মোট ৫টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে সর্বমোট সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে।

এদিকে বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের আনুমানিক গ্যাসের মজুত প্রায় দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে গভীর অনুসন্ধানমূলক তিতাস-৩১ নম্বর কূপটির সফল খনন ও ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলে এর মাধ্যমে ক্ষেত্রটিতে নতুন করে প্রায় আরও দুই টিসিএফ গ্যাসের বিশাল মজুত আবিষ্কার হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভূতাত্ত্বিক ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ডিআর