Image description

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভোরের আলো ফোটার আগেই মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক ও বিকট শব্দে বিস্ফোরিত এসব ককটেলের ঘটনায় পুরো গোপালচরণ এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালচরণ এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাসভবনের সামনে প্রথম ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটে। এর ঠিক দুই মিনিট পর, ভোর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। পরবর্তীতে আরও দুই মিনিট পর ৪টা ৩০ মিনিটে ওই স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় ককটেলটি ফোটানো হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা বলেন, "ফজরের নামাজের আগে প্রথমে আমার বাসার সামনেই বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণ পরই স্কুলের সামনে এবং পরবর্তীতে স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ পাই। পরপর তিনটি তীব্র শব্দে আমরা পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমাদের এই এলাকায় এর আগে কখনো ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেনি। বিকট শব্দে আশপাশের বহু মানুষ ভয় পেয়ে ঘর থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে আলামত হিসেবে ককটেলের জং ধরা খোসা ও অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে নিয়ে যান।"

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় দুষ্কৃতকারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত কেটে পড়ে।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ জানান, "ঘটনাস্থল থেকে বোমাসদৃশ ককটেলের আলামত ও খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই জড়িতরা সটকে পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং বিস্ফোরণে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

ডিআর