Image description

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের বৃদ্ধা জামিনা খাতুনের ঘরে যেন নিয়তির নির্মম পরিহাস নেমে এসেছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা না হওয়ায় তাঁর দুই কন্যা দীর্ঘ ১৪ ও ৮ বছর ধরে লোহার শিকলে বন্দী অবস্থায় জরাজীর্ণ ঘরে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনসায়াহ্নে এসে অসহায় এই মা তাঁর দুই মেয়ের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের করুণা ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরহুম মরতুজ আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুন ২৫ বছর আগে স্বামীকে হারান। এরপর মানুষের বাড়িতে কাজ করে ও ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোমতে তিন মেয়েকে লালন-পালন করেন। তবে বড় দুই মেয়ের জীবনকাহিনি ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়।

বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনকে পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায় বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়ের এক বছর পর মৃত সন্তান প্রসবের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁর মানসিক অসুস্থতা দেখা দিলে স্বামী কোনো চিকিৎসা না করিয়ে তাঁকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেন এবং একপর্যায়ে তালাক দেন। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে আফিয়াকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শুরু হয়, যা আজ প্রায় ১৪ বছর ধরে চলছে।

ছোট মেয়ে রোবেনা বেগমের পরিস্থিতিও একই রকম। পশ্চিম হরিরামপুর এলাকায় বিয়ের পর স্থানীয় একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর মৃত সন্তান প্রসব হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে যায়। জামিনা খাতুন নিজের ভিটামাটি বিক্রি করে হাসপাতালের বিল মিটিয়ে মেয়েকে ফিরিয়ে আনেন। এরপর থেকেই রোবেনাও মানসিক অসুস্থতায় ভোগা শুরু করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে গত ৭-৮ বছর ধরে রোবেনাকেও শিকলবন্দী করে রেখেছেন তাঁর মা।

বর্তমানে স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর একচালা টিনের ঘরে মাটির মেঝেকেই দুই বোনের ঠিকানা বানাতে হয়েছে। অর্থাভাব এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে তাঁদের উন্নত মানসিক চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

অশ্রুসজল চোখে বৃদ্ধা জামিনা খাতুন বলেন, "ভিক্ষা করে পেটের ভাত জোগাতেই আমার দিন যায়, দুই মেয়ের চিকিৎসা কীভাবে করব? ভালো ডাক্তার কোথায় আছেন তাও আমার জানা নেই। আপনারা একটু বাড়িয়ে দিলে হয়তো আমার মেয়ে দুটি সুস্থ জীবনে ফিরে পেত।"

অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বা চিকিৎসায় আর্থিক সাহায্য পাঠাতে জামিনা খাতুনের বিকাশ নম্বর ০১৭৮৫-৬৬৬০১০-এ যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডিআর