দিনাজপুরের জামতলী বাজার এলাকায় চার বছরের শিশু রাকিবা আক্তার রুহি নির্মম হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ আট ঘণ্টার অভিযানে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে একটি নির্জন নারকেল বাগান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুজন হলেন—প্রধান অভিযুক্ত রিপন টুডু (৩৫) এবং তাঁর সহযোগী সুজন টুডু (২০)। আসামিদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ২টায় দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলী বাজার সংলগ্ন এলাকার রিপন টুডুর সঙ্গে শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় ছয় মাস আগে জিন্নাতুন তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। তবে শিশু রুহিকে কেন্দ্র করে রিপন ও জিন্নাতুনের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো।
গত ৫ জুন রাতে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। রুহি উচ্চস্বরে কান্নাকাটি শুরু করলে ওড়না দিয়ে তাঁর মুখ ও গলা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে রিপন টুডু মোবাইল ফোনে সুজন টুডুকে ডেকে আনেন এবং দুজনে মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের নারকেল বাগানে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেন। ঘটনাটি আড়াল করতে ও সন্দেহ এড়াতে মূল গর্তের পাশেই অপর একটি গর্ত খুঁড়ে কুকুরের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর আসামিদের আটক করা হলে তাঁদের দেওয়া তথ্য পুনর্নিরীক্ষণ করে মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দফায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। নারকেল বাগানের মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদাত হোসেনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআর




Comments