Image description

৪৪ বছরের অপেক্ষা কি এবার শেষ হতে যাচ্ছে? প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারিকরণের মুখ দেখেনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার এ.জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ। দীর্ঘদিনের সেই দাবিতে এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটির সরকারিকরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। একই সঙ্গে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেলের সদস্য সচিব মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, সংসদীয় আসন-২৯০, চট্টগ্রাম-১৩-এর সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম তাঁর নির্বাচনি এলাকার কর্ণফুলী উপজেলার এ.জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে তিনি গত ৭ সেপ্টেম্বর ডিও পত্র দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতেই কলেজটির সরকারিকরণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, দীর্ঘদিনের দাবি এবার শুধু আবেদন কিংবা আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সরকারিকরণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও শুরু করার নির্দেশ এসেছে।

কলেজ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৬ সালে কর্ণফুলী উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের দাবি জোরালো হয়। এর আগে ২০২০ ও ২০২২ সালেও এ বিষয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে কলেজটির সরকারিকরণ না হওয়ার বিষয়টি উঠে এলেও কার্যকর অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট জাতীয় সংসদে কর্ণফুলীর একমাত্র কলেজ হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের দাবি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। এর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ আসায় নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, কর্ণফুলীর প্রাচীনতম এ কলেজটি সরকারি করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় দ্রুত সরকারিকরণের প্রত্যাশা করছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসী।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, কলেজটি সরকারি হলে এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অনার্স ও ডিগ্রি পর্যায়ে নতুন বিষয় চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরাও সরকারিকরণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হলে অপেক্ষাকৃত কম খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং কর্ণফুলীর শিক্ষাব্যবস্থায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে কলেজটির জমি, অবকাঠামো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, একাডেমিক কার্যক্রম, আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।

ডিআর