Image description

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নিখোঁজের দীর্ঘ ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও ১০ বছরের মাদ্রাসাছাত্রী ফাবিয়া তাবাসসুম মীমের কোনো সন্ধান মেলেনি। নিষ্পাপ শিশুটিকে ফিরে না পেয়ে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্বজনেরা। দ্রুত মীমকে সুস্থ ও জীবিত অবস্থায় উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক তৎপরতা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিখোঁজ মীম বানিয়াচং উপজেলার ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার খোয়াজ উল্লাহ মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় 'দারুল হিকমাহ তালীমুল কুরআন একাডেমি'র তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসায় যায় মীম। রাত ৮টায় মাদ্রাসা ছুটি হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে এলেও মীম আর ঘরে ফেরেনি। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে সন্ধান করতে গেলে সেখানে কেবল তার বই-খাতা ও ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। কিন্তু মীমের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় নিখোঁজ মীমের বাবা খোয়াজ উল্লাহ ১৮ সেপ্টেম্বর বানিয়াচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ঘটনার পর থেকে নিকটাত্মীয়দের বাড়িসহ সম্ভাব্য সকল স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে মাইকিংও করা হয়েছে। এমনকি অবোধ শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তবে ১১ দিন অতিবাহিত হলেও মীমকে উদ্ধার করতে না পারায় স্থানীয় অভিভাবকদের মনে তীব্র আতঙ্ক ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তাঁদের কোমলমতি সন্তানদের একা মাদ্রাসায় পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

মীমের চাচাতো বোন মারজিয়া খানম পলি জানান, "১৭ সেপ্টেম্বর সকালে মীম স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করতে যায়। দুপুরে বাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিকেল ৪টার দিকে আবার মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়। এরপর থেকে সে আর ফেরেনি। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার কোনো সন্ধান আমরা পাইনি।"

এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঘটনার দিন সকালে মীম ক্লাসে উপস্থিত থাকলেও বিকেলে সে মাদ্রাসায় আসেনি। তাছাড়া ওই দিনের সংরক্ষিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অস্পষ্ট হওয়ায় তা থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, "জিডি দায়েরের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। মীমকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।"

ডিআর