কৃষকের মাঠে ফসলের হাসি ফোটাতে দিনরাত ছুটে চলেন তাঁরা। কাদামাটি মাড়িয়ে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে পৌঁছে দেন কৃষকের দোরগোড়ায়। কিন্তু কৃষির চাকা সচল রাখা সেই মানুষগুলোর নিজেদের সংসারের চাকা থমকে গেছে। টানা প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলা কৃষি অফিসে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচজন গাড়িচালক।
ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর, শৈলকূপা, কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এসব চালক নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও মাস শেষে প্রাপ্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি অফিসে ২০১৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা গাড়িচালক আব্দুর রাজ্জাক জানান, চাকরীজীবনে নানা সময়ে বেতন পেতে বিলম্ব হলেও ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি এক টাকাও বেতন পাননি। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী সেলাইয়ের কাজ করে সামান্য যে টাকা পান, তা দিয়েই কোনোমতে টেনেটুনে সংসার চলছে।
আবেগপ্লুত হয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "প্রতিদিন অফিসের গাড়ি নিয়ে বের হই, কর্মকর্তাদের নিয়ে মাঠে যাই, কৃষকের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দিই। অথচ নিজের সন্তানদের ঠিকমতো খাবার বা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে দিতে পারি না। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? আমরা তো নিয়মিত কাজ করছি, কারও দয়া চাই না; আমাদের ন্যায্য বকেয়া বেতনটুকু সময়মতো চাই।"
একই ভোগান্তির কথা জানান শৈলকূপা উপজেলা কৃষি অফিসের চালক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, "দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় দোকানে বাকি পড়েছে, মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করতে হচ্ছে। অফিসের গাড়ি চলার জন্য যেমন জ্বালানি লাগে, আমাদের সংসার চলতেও তো টাকার প্রয়োজন। দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য কর্তৃপক্ষের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।"
বিষয়টি স্বীকার করে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, "আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত চালকরা বেতন না পেয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাস শেষে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তাঁদের সংসার চালানো ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন তাঁদের এই কষ্ট আমাদের চোখের সামনে দেখতে হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরাও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। দ্রুত তাঁদের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিবারগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।"
ডিআর




Comments