Image description

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের জমা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ক্যাশ কর্মকর্তা মো. শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তার প্রথম স্ত্রীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারের পর সোহাগকে মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে একটি জিডির মাধ্যমে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকদের জমা অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সোহাগ আত্মগোপনে চলে যান। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে ও তার প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর শাখাটির ক্যাশ কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগকারী গ্রাহকদের দাবি, তারা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর সোহাগের কাছ থেকে জমার রসিদ পেয়েছেন। তবে পরবর্তীতে ব্যাংক হিসাবে ওই অর্থের কোনো প্রতিফলন না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৪টি হিসাবের বিপরীতে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়। তবে পরবর্তীতে আরও বহু গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাংকের অডিট ও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিদিন শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে একের পর এক লিখিত অভিযোগ জমা পড়ছে। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় আড়াই শতাধিক গ্রাহকের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।

কিছু অভিযোগে এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ যাচাই, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংকের অডিট কমিটির তদন্তও চলমান রয়েছে।

এর আগে একই ঘটনায় ব্যাংকের আরেক ক্যাশ কর্মকর্তা জিন্নাহ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহাগ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের পর এ ঘটনায় পুলিশের হেফাজতে মোট তিনজন রয়েছেন।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার ও ক্যাশ কর্মকর্তা জিন্নাহ হোসেনের সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ কোথায় গেছে, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রকৃত পাওনার পরিমাণ কত।

পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করা হবে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্যাংকের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র এবং ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে।

এসএ