Image description

দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার পর অবশেষে অনুমোদন পেয়েছে ফেনী-নোয়াখালীর উপকূলবাসীর বহুল প্রত্যাশিত মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মুছাপুর রেগুলেটর ও ক্লোজার পুনর্নির্মাণের উদ্যোগে একনেকের অনুমোদন পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

নদীভাঙন, লবণাক্ত পানি, জলাবদ্ধতা ও কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকার সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ-১ম পর্যায়)’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ওই সভায় মোট ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ছোট ফেনী নদীর মোহনায় অবস্থিত মুছাপুর রেগুলেটর ও ক্লোজার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে রেগুলেটরটি অচল হয়ে পড়ায় ফেনীর সোনাগাজী ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও নদীভাঙন নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

রেগুলেটরটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ছিলেন উপকূলীয় এলাকার কৃষক, নদীতীরবর্তী বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাঁদের দাবি ছিল, পানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে কৃষি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় অবকাঠামো আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এর আগে ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে সামনে রেখে মুছাপুর ক্লোজার ও রেগুলেটর পুনর্নির্মাণের দাবি নিয়ে সোনাগাজীতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে মুছাপুর পরিদর্শন না থাকলেও প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

একনেকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলেও এখন স্থানীয়দের নজর দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে।

সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণের অনুমোদন উপকূলবাসীর জন্য স্বস্তির খবর। এখন দ্রুত কাজ শুরু করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা দরকার। এতে সোনাগাজী ও কোম্পানীগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা করছি।’

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া, নবাবপুর ও আমিরাবাদ ইউনিয়নসহ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও প্রকল্প অনুমোদনের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন দীর্ঘসূত্রতা না হয়।

এদিকে একই একনেক সভায় সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত একটি প্রকল্পও অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে।

একই দিনে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ ও সোনাগাজীর সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ায় ফেনীর উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মুছাপুর রেগুলেটর ও ক্লোজার পুনর্নির্মাণ প্রকল্পটি মঙ্গলবার একনেক সভায় অনুমোদন হয়েছে। এখন পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর সে অনুযায়ী প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মুছাপুর রেগুলেটর ও ক্লোজারের কার্যকারিতা ফিরবে। এতে পানি নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

এসএ